জনপ্রতি ১শ টাকায় মিলছে টিসিবি’র ফ্যামিলি কার্ড

ভোক্তাকণ্ঠ ডেস্ক:
বরগুনার বেতাগীতে ট্রেডিং কর্পোরশেন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পণ্য ক্রয়ের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে জনপ্রতি ১শ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ অস্বীকার করলেও ইউপি সদস্যরা অনলাইন ও অফিস খরচের বরাত দিয়ে গত কয়েকদনি যাবত এ টাকা আদায় করছেন বলে জানান হোসনাবাদ ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী কার্ড পেয়েছেন সাত হাজার ৮৮১ জন। উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিটি কার্ড বিতরণের সময় কাগজপত্র গোছানো, ফরম পূরণ ও অফিস খরচের নামে জনপ্রতি ১শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিবিচিনি, বেতাগী সদর, হোসনাবাদ, মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার ও সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বিতরণ করা কার্ডে শতভাগ টাকা আদায় করা হয়েছে।

হোসনাবাদ ইউনিয়নের মোশারেফ, শহিদ, পনু, হাসান জানান, স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে এসে যদি মেম্বারদের ঘুষ দিতে হয় তবে আমাদের কি লাভ হলো।

প্রতিটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে এ টাকা নেয়া হচ্ছে।

ইউপি সদস্যরা বলছেন, টিসিবি’র ফরম পূরণ করতে হয়েছে। অনলাইন খরচসহ কাগজপত্র গোছাতে হয়েছে। অফিস খরচ আছে।

এদিকে, একাধিক ভুক্তভোগী বলছেন, পণ্যের দাম আর ঘুষের টাকা মিলিয়ে তো দোকান থেকেই ক্রয় করা যেত।

হেসানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ইউপি সদস্য মাসুদ আলম জানান, ‘১শ টাকা নিয়েছি, এতেও মেম্বারদের লোকসান হবে। কারণ কাগজ ফটোকপি, ফরম পূরণ করতে টাকা লাগছে। এছাড়া উপজেলায় কিছু খরচ দিতে হবে।’

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খাঁন বলেন, ‘ইউপি সদস্যদের টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে টাকা ফেরৎ দেয়ার ব্যবস্থা করবো।’

বেতাগী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ন কবির খলিফা বলেন, ‘এতো নিষেধ করি, তারপরও ইউপি সদস্যদের টাকা খাওয়া ফেরাতে পারিনা। তবে আমি এই টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে কিছু জানিনা।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘টিসিবির কার্ড প্রদানে সুবিধাভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরইউ