আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থানীয় শিল্প শক্তিশালী করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। কিন্তু অর্থনৈতিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে এখান। ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে জামানত ছাড়াই ঋণ প্রকল্প চালু করতে হবে। সেজন্য বিদ্যমান কর্পোরেট কর হার কমাতে হবে। প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে এটি দরকার। পাশাপাশি কর কাঠামোর জটিলতা নিরসন ও যুগোপযোগী করা এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা দিতে হবে।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডিসিসিআইর বর্ষব্যাপী কর্ম-পরিকল্পনা বিষয়ে জানাতে রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিসিআই কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে জামানতে ঋণ নেয়ার সক্ষমতা নাম। এখাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। দেশি শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটলে বিদেশিরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বলে তিনি মতামত দেন। অর্থায়নের সংকট মেটাতে এসএমই বন্ড চালুর পরামর্শ দেন তিনি। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর রপ্তানিতে নতুন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে বাংলাদেশকে। তাই এখন থেকে অর্থনৈতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ভ্যাটের আওতা বেশি। বাংলাদেশেও আয়কর নয়, ভ্যাট থেকে আদায় বাড়াতে হবে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ডিজিপির ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবছর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এফডিআই বাড়াতে কর্পোরেট কর কাঠামোর সংস্কার ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সে লক্ষ্যে বিদ্যমান কর্পোরেট কর ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমানো যেতে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানিমুখি পণ্যের ওপর শুল্কহার বর্তমানের চেয়ে ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। ফলে এখন থেকে পণ্যের বহুমুখীকরণের সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। সেজন্য আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের রপ্তানি বাজার ধরতে হবে। এ ছাড়া পিটিএ এবং এফটিএ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা করা জরুরি।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজওয়ান রাহমান বলেন, করোনার কারণে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অবস্থা খুবই নাজুক। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাদের সহজে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি এসএমই বন্ড চালু করতে হবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতিতে কার্যকর রূপকল্প প্রণয়ণ জরুরি বলে তিনি জানান।