লাভ করুন, লোভ নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বিশ্ব বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক ব্যবসায়ী রাতারাতি ভাগ্য বদলায়ে ধনী হতে চায়। সেসব ব্যবসায়ীকে বলবো, লাভ করেন, কিন্তু লোভ করবেন না।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভার আগে এই দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত সভাযাত্রা বের করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এএইচএম সফিকুজ্জামান।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সংখ্যায় সীমিত হলেও শক্তিতে কঠিন। এজন্য সরকারও তাদের প্রতি কঠোর হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকেও এখন সচেতন হতে হবে। প্রতারিত হলে প্রতিবাদ করতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরকেও কার্যকর হতে হবে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, এখন ভোক্তাদের বড় দুঃসময় চলছে। জিনিসপত্রের মূল্য হু হু করে বাড়ছে। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ পণ্যমূল্যে নিষ্পেষিত। সরকারও চেষ্টা করছে দাম নিয়ন্ত্রণের। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার অবমূল্যায়নসহ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের বাজারে পণ্যমূল্যে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে সরকারকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিষ্পেষিত হচ্ছে, যা সরকারের বড় বড় অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার বাজারে স্বস্তি আনতে এবং মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগার বৃদ্ধিতে আরো যত্নবান ও উদ্যোগী হবে, সেই প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর খুচর, পাইকারি পর্যায়ে যে তদারকি করছে তা প্রশংসা পাবার যোগ্য। এই তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।

ভোজ্যতেলের উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারে তেলের বাজারে সু-বাতাস বইতে পারে বলেও জানান তিনি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন দ্রব্যমূল্য যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, সেটা নিয়ে সিন্ডিকেট করবেন না। এ খারাপ পরিস্থিতিতে মুনাফা কমিয়ে মানুষের সেবা করুন।

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে ভোক্তাদের উত্তোরণে নিয়মিত খুচরা এবং পাইকারি বাজার তদারকি করছে ভোক্তা অধিকার। দ্রুতই তেল নিয়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো।

ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমি ব্যবসায়ীদের নেতা, তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের নয়।

তিনি বলেন, কারণ ছাড়াই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ালে কাউকে ছাড় দেবেন না। ব্যবসায়ীদের সরকারের নিয়ম কানুন মেনে ব্যবসা করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।

এসআর