আসল-নকল বোঝার উপায় নেই, প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা

ভোক্তাকণ্ঠ রিপোর্ট: ‘পণ্য কিনলে ভোক্তা প্রতারিত হবে’ এটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এমন ভাবে বিভিন্ন পণ্য নকল করা হচ্ছে যা দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল। অনেক সচেতন ক্রেতাও নিজের অজান্তেই নকল পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এমন সব পণ্যের নকল করা হচ্ছে যা ভোক্তাদের ধারণারও বাইরে।

অন্যদিকে, নকল পণ্য বাজারজাত হওয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রক, লাইজল, ফিনিস, হারপিকসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনারের মত নকল পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানীর কাপ্তান বাজারের হার্ডওয়ারের দোকানগুলো। খুচরা এবং পাইকারী বেশকিছু দোকানে মিলেছে নকল পণ্য।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে রাজধানীর কাপ্তান বাজারে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান ও সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং সহকারী পরিচালক মো. মাগফুর রহমান।

কাপ্তান বাজারে নকল ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার পাওয়া যায়, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি দোকানে তদারকি করা হয়। তবে মূল অপরাধীকে ধরতে আরও জোরালো অভিযান চালায় ভোক্তা অধিদপ্তর। মার্কেটের বিভিন্ন দোকান খুঁজে অবশেষে মেলে আসল অপরাধীর। কাপ্তান বাজারের সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মমিন হার্ডওয়্যার নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয় বাজারসহ সারাদেশেই ছড়িয়ে যেত এসব নকল ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার।

অভিযানে দেখা যায়, রক, লাইজল, ফিনিস, হারপিকসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার নকল করে বিক্রি করছিল মমিন হার্ডওয়্যার। ভোক্তা কর্মকর্তারা হাতেনাতে এমন অপরাধের প্রমাণও পায়।

দোকানে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় জার থেকে প্লাস্টিকের নকল বোতলে ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার ঢুকানো হচ্ছে। বোতলের গাঁয়ে চকচকে মোড়ক লাগিয়ে দেওয়ার পর বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল-কোনটি নকল। দোকানে বেশকিছু নকল পণ্যের মজুদও দেখা যায়। নকল এসব পণ্য মোড়কজাত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই পাওয়া যায় ওই দোকানে।

জরিমানা
নকল পণ্য তৈরি এবং বাজারজাত করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং জনস্বার্থে মমিন হার্ডওয়্যারের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মমিন হার্ডওয়্যারের দায়িত্বরত ব্যক্তি জানান, নকল ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরের একটি কারখানা থেকে ক্রয় করে এনে দোকানে কিছু পণ্যের মোড়কজাত করা হয়। কাপ্তান বাজারের বেশির ভাগ দোকানেই নকল পণ্য বিক্রি করা হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়া রক ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, কাপ্তান বাজারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের দোকানে আমাদের কোম্পানির নকল পণ্য দেখে আমরা ভোক্তা অধিদপ্তরের স্মরণাপন্ন হই। ভোক্তা অধিদপ্তর আমাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত অভিযানে নামেন। এবং হাতেনাতে প্রমাণ পান। ভোক্তা অধিদপ্তর এমন দ্রুত সারা দেওয়ায় আমরা খুব খুশি। সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান এমন আন্তরিক হলে সাধারণ ভোক্তারা আরও উপকৃত হবেন।

পরে একটি হোটেলকে পাঁচ হাজার এবং একটি ওষুধ ফার্মেসীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ‘ভোক্তারা বিভিন্ন ভাবে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছেন। ভোক্তা অধিদপ্তর সব সময় ভোক্তাদের সেবায় কাজ করছে। প্রতারণার যেকোন অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আজও কাপ্তান বাজারে এসে দেখি নামিদামি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে নকল ফ্লোর ও টয়লেট ক্লিনার তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। আমরা অপরাধীকে ধরে ভোক্তা-অধিকার আইনের আওতায় জরিমানা ঘোষণা করেছি। পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাকে আরও সচেতন হতে হবে। কোথাও প্রতারিত হলে ভোক্তা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’