পাকিজা কাপড়ে প্রতারণা, ধরে ফেললো ভোক্তা অধিদপ্তর

ভোক্তাকণ্ঠ রিপোর্ট: সূক্ষ্ম প্রতারণার মাধ্যমে ভোক্তাদের নিয়মিত ঠকাচ্ছিল পাকিজা ফেব্রিক্স। থান কাপড় বহরে ৩৬ ইঞ্চি দেবার কথা থাকলেও বাস্তবে দিচ্ছে ৩৩ ইঞ্চি। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি থান কাপড়ে তিন ইঞ্চি করে কম দিয়ে ভোক্তার সঙ্গে নিয়মিত প্রতারণা করে আসছিল। অবশেষ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অধিদপ্তরের অভিযানে এমন সুক্ষ্ম অপরাধ ধরা পড়ে।

বুধবার নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে অভিযানে যায় ভোক্তা অধিদপ্তর। পূর্ব অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিজা কাপড়ের শো-রুমে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল, এবং সহকারী পরিচালক মো. মাগফুর রহমান।

অভিযানে যা দেখা গেল
পাকিজা কোম্পানির থান কাপড় বহরে লেখা রয়েছে ৩৬ ইঞ্চি। পাকিজার উপর বিশ্বাস রেখে নিয়মিতই কাপড় ক্রয় করছেন ভোক্তারা। তবে অভিযানে ফিতা দিয়ে মেপে দেখা যায় কাপড়ের বহর ৩৩ ইঞ্চি। অর্থাৎ প্রতিটি থান কাপড়েই কম দিচ্ছে তিন ইঞ্চি। যা আইনত দণ্ডনিয় অপরাধ।

জরিমানা
ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী এবং দীর্ঘদিন থেকে নিরবে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার ২০০৯ আইনের দুই ধারায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং ব্যবসার বৈধ কাগজপত্রসহ আগামী সোমবার স্ব শ্বরীরে ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিসে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে যা বলছেন ব্যবসায়ী
নিজেদের ভুল স্বীকার করে ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের কাপড়ের বহরে ৩৬ ইঞ্চি থাকার কথা ছিল। কিন্তু ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ফিতা দিয়ে মাপার পর দুই থেকে তিন ইঞ্চি কম পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের সর্তক করে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা চেষ্টা করবো যে পরিমাণ কাপড় থাকবে সে পরিমাণ উল্লেখ করেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে।

স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী দেলোয়ার বলেন, কাপড় মাপে কম দেওয়ার বিষয়টি আমার মাথায় এর আগে আসেনি। আজ বাস্তবে দেখে আমিও অবাক হয়েছি। তবে কাপড় যখন তৈরি হয় তখন ঠিক থাকে। যখন বাল্লি দেওয়া হয়, ফিনিসিং দেওয়া হয়, তখন ঘের এক দেড় ইঞ্চি কমে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে পাকিজা কোম্পানির চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাবো। এবং দ্রুত যাতে ব্যবস্থা নেয়া হয় সে বিষয়ে অবশ্যই নির্দেশনা দিব।

অভিযানের বিষয়ে যা বলছেন ভোক্তা কর্মকর্তা
আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, পাকিজা কাপড়ের বহর ৩৬ ইঞ্চি ডিকলারেশন দিয়েছে। কিন্তু আমরা মেপে ৩৩ ইঞ্চি পেয়েছি। তিন ইঞ্চি কম দেওয়া হচ্ছে। একজন ভোক্তা টাকা দিচ্ছেন ৩৬ ইঞ্চির জন্য কিন্তু তাকে দেওয়া হচ্ছে ৩৩ ইঞ্চি। এমন অভিযোগ আমাদের কাছে ছিল। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করতে এসে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছি। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে।

আরও যেখানে অভিযান চালানো হয়
ইসলামপুরের মহন চাঁন গ্র্যাণ্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের দধিতে বিক্রয় মূল্য এবং উৎপাদন বা মেয়াদ উত্তীর্ণের কোনো তারিখ লেখা ছিল না। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্কতামূলক মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।