দোকান নয় যেন মেয়াদোত্তীর্ণ অবৈধ ওষুধের গোডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অভিযাত এলাকায় আভিযাত্যের কমতি না থাকলেও ভেজালের অভাব নেই। বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কি দৃশ্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। রাজধানীর অন্যতম অভিযাত এলাকা বনানী। এখানে বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত্বদেরই বসবাস। কর্পোরেট অফিসের পাশাপাশি রয়েছে আবাসিক এলাকাও। এই এলাকার বাসিন্দাদের জরুরী নিত্যপণ্যের প্রয়োজন মেটাতে রয়েছে সুপারশপ, রেষ্টুরেন্ট, ওষুধের দোকান সহ নানা প্রতিষ্ঠান।

বনানীর ১১ নং সড়কের ডি ব্লকের আল-আরাফাহ ফার্মেসী তেমনই এক প্রতিষ্ঠান। অভিযাত এলাকার এই ফার্মেসীর বাহ্যিক দিক দেখে বোঝার উপায় নেই ভিতরে সাজানো মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং অবৈধ ওষুধ সম্পর্কে। রবিবার এই ফার্মেসীতে অভিযানে যান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ঢাকা জেলা) এর একটি টিম। অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ঐ ফার্মেসীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল সহ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা।

অভিযানে ফার্মেসীতে যা পাওয়া গেল তা দেখে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখ কপালে ওঠার মত অবস্থা। দোকানের তাকগুলোতে সাজানো ওষুধের অনেকটাই মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং অবৈধ। অভিযানে অংশ নেয়া অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা প্রায় প্রতিটি ওষুধের তাক থেকে খুঁজে বের করেন মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং অবৈধ ওষুধ। একটি দুটি নয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বক্স মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, বিদেশী যৌন উত্তেজোক অবৈধ ওষুধ, ঘষে মূল্য তুলে দেয়া ওষুধের প্যাকেট, এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ সাবান ও লোশান উদ্ধার করে।

পরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশী যৌন উত্তেজোক ওষুধ বিক্রি, ওষুধের এমআরপি (মূল্য) ঘষে মুছে দেয়ার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ফার্মেসীর কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ৪০ হাজার টাকা জরিমানা জরা হয়। এই টাকা নগদ পরিশোধ করে নিষ্কৃতি পেলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল ওষুধ, সাবান, লোশান জব্দ করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় বলা রয়েছে: মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এর আগে বনানী কাঁচা বাজারে নিত্যপণ্যের বিভিন্ন খুচরা দোকান ঘুরে মূল্য তালিকা টানানো আছে কি না তদারকি করেন অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা। এসময় বিক্রিতাদের উদ্দেশ্যে হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, যেন প্রত্যেক দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা টানানো হয় এবং পাইকারী দরে ক্রয়কৃত মূল্যের রশিদ সংগ্রহে রাখেন।

পরে বনানীর জেমিনি শপিং সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে বিদেশী পণ্য নিজেরাই মূল্য তালিকা লাগিয়ে বিক্রির অভিযোগে জেমিনি শপিং সেন্টারের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় দোষী সাবস্ত করে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং নগদে তা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় বলা রয়েছে: পণ্যের মোড়ক, ইত্যাদি ব্যবহার না করা: কোন আইন বা বিধি দ্বারা কোন পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করার এবং মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করলে অনুর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া বনানীর ১১ নং সড়কের ডি ব্লকের টস্টি রেস্টুরেন্টে বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়া ব্রেড বিক্রি এবং ফ্রিজের মধ্যে কাচা পণ্য ও তৈরিকৃত (রান্না করা) পণ্য এক সঙ্গে রাখার অপরাধে অধিদপ্তারের ৩৭ ধারায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।

অভিযান শেষে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান অব্যহত থাকবে। আল-আরাফাহ ফার্মেসী, জেমিনি শপিং সেন্টার এবং টস্টি রেস্টুরেন্টকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এমন ভুল করলে আরও বড় শাস্তির আওয়াতায় আনা হবে এসব প্রতিষ্ঠানকে।

আরইউ