চাকচিক্যের আড়ালে যা তা অবস্থা ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁর!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর তোপখানা রোডে চাকচিক্যের আড়ালে নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করে ক্রেতাদের খাওয়াচ্ছেন ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁ।

রবিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁর এমন চিত্র ধরা পড়ে।

এই রেস্তোরাঁর নিচ তলায় বাংলা খাবার, দ্বিতীয় তলায় চাইনিজ খাবারের ব্যবস্থা করেছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় রয়েছে রান্না ঘর। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁ রান্না ঘরে ঢুকলে দেখতে পায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে খাবার। তৃতীয় তলায় ফ্রিজের মধ্যে রাখা হয়েছে রান্না করা মাছ-মাংসের সঙ্গে কাঁচা খাবার। যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণ করে ক্রেতাদের খাওয়ানো হচ্ছে।

এছাড়া নোংরা ফ্লোরে কাঁচা সবজি ফেলে রাখা হয়েছে, ব্যবহৃত পুরাতন পানির বোতলে বোরহানি রাখা হয়েছে, বোরহানীর উৎপাদন মেয়াদ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখা নেই, রেস্তোরাঁয় কর্মরত কর্মীদের ব্যবহারের টয়লেটে নেই কোন সাবান বা হ্যান্ডওয়াস।

এসব অপরাধে অধিদপ্তর আইনের ৪৩ ধারায় দোসী সাবস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানাকৃত টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে:
অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ: মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হয় এমন কোন প্রক্রিয়ায়, যা কোন আইন বা বিধির অধীনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কোন পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করা হলে অনুর্ধ্ব দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

পরে বস সুইটস নামের একটি মিষ্টি দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে দই এর মোড়কে উৎপাদন মেয়াদ এবং উত্তীর্ণের তারিখের প্রমাণ না পাওয়ায় অধিদপ্তরের ৩৭ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নগদে সেই টাকা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় বলা রয়েছে:
পণ্যের মোড়ক, ইত্যাদি ব্যবহার না করা: কোন আইন বা বিধি দ্বারা কোন পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করার এবং মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করলে অনুর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া লাইফ ফার্মায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিক সেই টাকা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় বলা রয়েছে:
মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নীড ভ্যারাইটিস স্টোরে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ায় তাকেও ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিক সেই টাকা আদায় করা হয়।

এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার পরিদর্শন করে চাল, চিনি,পেঁয়াজ, কাঁচা সবজি, পোল্ট্রি, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, পণ্য ক্রয়-বিক্রয় রসিদ, পণ্যের মূল্য তালিকা পরিবীক্ষণ করা হয়। এসময় বাজারে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রয়, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের হ্যান্ডমাইকে সতর্ক করা হয়।

ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের ৪টি টিম কর্তৃক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা, এবং ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) মো. মাগফুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা জানান, নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সাপ্তাহিক ছুটিরদিনসহ নিয়মিতভাবে সারাদেশে অধিদপ্তরের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। বাজারে কোন প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে অসাধু ব্যবসায়ীদের তিনি সতর্ক করেন।

আরইউ