জরুরী মূহুর্তের ‘ইন হেলার’ও মেয়দোত্তীর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাঁপানি রোগে আক্রান্ত রোগীরা চটজলদি উপশমের জন্য ইন হেলার (ব্রঙ্কোডায়ালেটার) ব্যবহার করে থাকেন। যা তাড়াতাড়ি নিঃশ্বাসে বাঁধা সৃষ্টিকারী স্ফীত বায়ুনালীর পথ খুলে দেয়। জরুরী মূহুর্তের এই ওষুধটিও মেয়দ উত্তীর্ণ। শুধু ইন হেলার’ই নয় এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে রাজধানীর জিগাতলার মেসার্স রতন ড্রাগস থেকে।

বৃহস্পতিবার জিগাতলা ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ঢাকা জেলা) কর্মকর্তারা। এসময় মেসার্স রতন ড্রাগস নামের একটি ফার্মেসীতে অভিযান পরিচালিত হয়। ফার্মেসীটিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইন হেলার পাওয়া যায়। যা ২০২০ সালে অর্থাৎ এক বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেই ওষুধটিও বিক্রির অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে ফ্রিজে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিসলর ১০, কিটো-এ ১০০, ন্যাপ্রোসিন-প্লাস ৩৭৫/২০, নিটক্সিন, এনারক্সিল, সেরক্সিন সহ প্রায় ১৫ বক্স মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়।

পরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিক সেই টাকা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় বলা রয়েছে:
মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

পরে ধানমন্ডির ‘ব্লু ফার্মেসী’তে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিদেশী পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের সিল এবং এমআরপি (মূল্য) না থাকায় অধিদপ্তরের ৩৭ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নগদে সেই টাকা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় বলা রয়েছে:
পণ্যের মোড়ক, ইত্যাদি ব্যবহার না করা: কোন আইন বা বিধি দ্বারা কোন পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করার এবং মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করলে অনুর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া ধানমন্ডির ‘প্রগতি ফার্মেসী’তে অভিযান পরিচালিত হয়। এই ফার্মেসীতে বিদেশী ওষুধ আমাদানিকারক ছাড়াই অবৈধভাবে বিক্রি, পণ্যে মোড়কে নিজেরাই মূল্য বসিয়ে বিক্রি এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় অধিদপ্তরের ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিক সেই টাকা আদায় করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল। তিনি বলেন, বিদেশী ওষুধে অবশ্যই আমদানীকারকদের সিল এবং এমআরপি থাকতে হবে। কোনভাবেই মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। এসব আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আজ প্রত্যেকটি ফার্মেসীকে জরিমানা করে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এমন ভুল করলে বড় ধরণের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আরইউ