প্রতিশ্রুতি দিয়েও সমাধান দেননি ফার্নিচার বিক্রেতা

ভোক্তাকণ্ঠ রিপোর্ট: সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ের জান্নাত ফার্নিচার থেকে দুটো তিন পাল্লার আলমারি ও একটা সু র‍্যাক অর্ডার দিয়েছিলেন এক ক্রেতা। ডেলিভারি পাবার পর তিনি লক্ষ্য করেন আলমারির তিনটি দরজার তিনটিতেই উপরে ও নিচের দিকে অনেকটাই ফাঁকা। বিষয়টি তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিককে জানালে নানা তালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত আর ঠিক করে দেননি।

ভোক্তাকণ্ঠকে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই আলমারি ও সু র‍্যাক অর্ডার দেয়ার পর সে দিনই ডেলিভারি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ডেলিভারি দেওয়ার পর বাকি ২৫ হাজার দিয়েছি। বাড়তি ১০০০ হাজার টাকা লেবার খরচ দিয়েছি যেটা দেওয়ার কথা উল্লেখ্য ছিল না। টাকা নেওয়ার সময় তারা বলেছিলো কোনো সমস্যা দেখলে তাদের জানাতে তারা লোক পাঠিয়ে ঠিক করে দেবে।

পরে লক্ষ্য করলাম একটা আলমারির তিনটি দরজার তিনটিতেই উপরে ও নিচের দিকে অনেকটাই ফাঁকা। দরজার তৈরি করার সময়ই কাঠ বেঁকে গিয়ে এমন হয়েছে। তারা এভাবেই আলমারি ডেলিভারি দিয়েছে। দেখার সঙ্গে সঙ্গে বলেছি এই দরজার কোনো ভাবেই ঠিক হবে না। তারা বলেছে অসুবিধা নাই ঠিক করে দেবে। কয়েকদিন পর পর ফোন দিলে তারা বিভিন্ন কারণ দেখায়। কিন্তু লোক পাঠায় না।

এভাবে এক মাসের বেশি হয়ে যাওয়ার পর লোক পাঠালে অন্য সমস্যা সমাধান করে দিয়ে যায়। আর বলে দরজা ঠিক করার জন্য লোক পাঠাবে। তারপর আবার কল দিয়েছি লোক কবে পাঠাবে আজ না কাল এমন করে কয়েক দিন পর বলে দরজা যে কর্মচারী ঠিক করবে সে অসুস্থ। সুস্থ হলে লোক পাঠাবে। এভাবে আরও এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে যায় লোক পাঠায় না।

সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর কল দিয়েছিলাম দোকানের মালিক বলেছেন- আলমারি ঠিক করে দেবে যদি আমরা নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসার খরচ বহন করি। আমরা বলেছি এটা সম্ভব না কারণ আমাদের বাসায় আনার পর সমস্যা হয়নি। আপনারা এভাবেই ডেলিভারি দিয়েছেন। তখন দোকানের মালিক তাহলে ঠিক করে দেওয়া সম্ভব না। তখন আমি বলেছি আপনি সমস্যা সমাধান করে না দিলে আমি ভোক্তা অধিদপ্তর ও ক্যাবের মাধ্যমে আকশনে যাব। এই কথা শুনে দোকান মালিক বলেছে- আপনার যা ইচ্ছা করেন।

এ বিষয়ে ফার্নিচার বিক্রেতা ভোক্তাকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি লোক পাঠিয়েছিলাম, তারা কাজ করে দিয়ে এসেছে। দরজার যে সমস্যার কথা তিনি বলেছেন তার জন্য আলমারিটা এখানে (শো-রুমে) আনতে আলাদা পেমেন্ট করতে হবে। কিন্তু তিনি পেমেন্ট করতে রাজি না।’

আপনার বিরুদ্ধে তিনি তো জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযোগ করতে পারেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর ডাকলে আমি যাবো।’

এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান ভুক্তভোগী ক্রেতা পাননি বলে ভোক্তাকণ্ঠকে জানিয়েছেন।

-এসএম